Homeজেলা তথ্যশেরপুর জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

শেরপুর জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

শেরপুর জেলা বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। পূর্বে ১৮২৯-২০১৫ পর্যন্ত এটি ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত ছিল। শেরপুর জেলার আয়তন ১,৩৬৪.৬৭ বর্গকিলোমিটার। শেরপুর জেলা পূর্বে জামালপুর জেলার একটি মহকুমা ছিল। ১৯৮৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এটিকে জেলায় উন্নীত করা হয়। শেরপুর শহর, দেশের রাজধানী ঢাকা থেকে ১৯৮ কিলোমিটার (১২৩.০৩ মাইল) উত্তরে অবস্থিত।

শেরপুরের অর্থনীতি প্রধানত কৃষিভিত্তিক, যদিও অকৃষি অর্থনৈতিক কার্যক্রম জেলার উন্নয়ন কর্মকান্ডে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। জেলার মোট ৩,৩৫,৪৬০ বসতবাড়ির মধ্যে, ৬০.১২% খামার যা বিভিন্নরকম ফসল উত্পন্ন করে যেমন স্থানীয় ও উচ্চফলনশীল ধান, গম, পাট, সরিষা, আলু, ডাল, বিভিন্নরকম শাকসবজি, তামাক এবং অন্যান্য।

কলা, আম, জাম, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, কাঁঠাল, তাল, জাম্বুরা, বেল, পেঁপে, বড়ই, কামরাঙ্গা, আতাফল ইত্যাদি বিভিন্ন ফল চাষ করা হয়। দেশের অন্যান্য অংশের মতো এই জেলায়ও বিভিন্ন জাতের মাছ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। নদী, উপনদী চ্যানেল এবং খাঁড়ি থেকে বিভন্ন প্রকার মাছ ধরা হয়।জনপ্রিয় স্বাদুপানির মাছ হচ্ছে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউস, চিতল, বোয়াল, আইড়, পাঙ্গাস, গজাড়, শোল, পাবদা, কই, শিং, ফালি, বেলে, টেংরা ইত্যাদি। এছাড়াও সদ্য পরিচিত বিদেশী বিভিন্নরকম মাছ হচ্ছে তেলাপিয়া, নাইলোটিকা, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প ইত্যাদি। এছাড়াও ফসল, গৃহপালিত পশু ও মৎস্য পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। অকৃষি কর্মকান্ডেও জেলার অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ক্ষেত্র বহুলাংশে ধানের চাতালের উপর নির্ভরশীল। প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি কুঁড়া, তুষ সহ অনেক ছোট ছোট শিল্পের যোগান ও পরিবহন খাতের গ্রাহক হয়ে সাহায্য করছে এইসব চাতাল। এ অঞ্চেলর পাহাড়ে লাল বনমোরগ ও বিভিন্ন প্রাণী পাওয়া যায়।

মিষ্টি দেখলে কার না খেতে ইচ্ছা করে? আর যদি তা হয় শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘ছানার পায়েস’ তাহলে তো কথাই নেই। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার প্রসিদ্ধ মিষ্টির মধ্যে শেরপুরের ছানার পায়েস অন্যতম।

দেশের বিখ্যাত মিষ্টিগুলোর মধ্যে রয়েছে মুক্তাগাছার মন্ডা, টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচম, কুমিল্লার রস মালাই, নাটোরের কাঁচা গোল্লা, নেত্রকোনার বালিশ মিষ্টি ইত্যাদি।

শেরপুরের ছানার পায়েসের রয়েছে প্রাচীন ঐতিহ্য। আজ থেকে প্রায় ১’শ বছর আগে জেলার ঘোষপট্টিতে প্রথম এ মিষ্টি তৈরি হয় বলে জানা যায়। তখন হাতে গোনা ২/১টি দোকানে এই মিষ্টি তৈরি হতো। তৎকালীন জমিদাররা এখান থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে এই মিষ্টি কলকাতায় নিয়ে যেতেন।

কিন্তু বর্তমানে শুধু শেরপুর জেলা সদরেই ২০টিরও বেশি দোকানে এই মিষ্টি তৈরি হয়। প্রতিদিন গড়ে ২’শ কেজি ছানার পায়েস বিক্রি হয় এখানে।

শেরপুরের মিষ্টি ব্যবসার জীবন্ত কিংবদন্তী ও দুর্গাচরণ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক শ্রী কানাই লাল ঘোষ (৯৫) জানালেন ছানার পায়েস তৈরির পদ্ধতি।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, প্রথমে উচ্চ তাপমাত্রায় দুধ জ্বাল দিয়ে ক্ষীর তৈরি করা হয়। এরপর আলাদাভাবে দুধ থেকে ছানা কেটে তাতে সামান্য ময়দা মিশিয়ে ছোট ছোট গুটি তৈরি করা হয়। গুটিগুলো পরে চিনির শিরায় ভিজিয়ে আগে প্রস্তুত করে রাখা ওই ক্ষীরে ছেড়ে অল্প আচে কিছুক্ষণ জ্বাল দিলেই তৈরি হয়ে যায় সুস্বাদু ছানার পায়েস।

কানাই লাল জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তৎকালীন পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খাঁন শেরপুরে এলে তাদের ঐতিহ্যবাহী ছানার পায়েস দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়েছিল।

শেরপুর শহরের দুর্গাচরণ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, প্রেমানন্দ গ্রান্ড সন্স, অমৃত গোপাল মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, নন্দ গোপাল, বল্লভ ভাণ্ডার, মা ভবতাঁরা টি স্টল, চারু সুইটস, অনুরাধা টি স্টল ও দীনেশ ঘোষের দোকানে এই মিষ্টি পাওয়া যায়। শেরপুরের আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র গজনী অবকাশ অথবা মধুটিলা ইকোপার্কে বেড়াতে এলে শহরের এসব দোকান থেকে যে কেউ এই সুস্বাদু মিষ্টির স্বাদ চেখে দেখতে পারেন।

চারু সুইটসের মালিক গোবিন্দ কুমার ঘোষ বলেন, বর্তমানে শহরের মিষ্টির দোকানগুলোতে প্রতি কেজি ছানার পায়েস ১৮০ টাকা থেকে ২’শ টাকায় বিক্রি করা হয়। বিয়ে, জন্মদিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই মিষ্টি দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়নের কোনো জুড়ি নেই। শুধু শেরপুরে নয়, সারা দেশেই রয়েছে এই মিষ্টির ব্যাপক চাহিদা।

আরও পড়ুন: ক্লিক করুন

শেরপুৃরের সকল খবর পেতে শেরপুর সংবাদের সাথেই থাকুন

আমাদের ইউটিউব: শেরপুর সংবাদ

 

 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular