Thursday, January 26, 2023
Homeপর্যটনপ্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শেরপুরের দর্শনীয় স্থান সমূহ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শেরপুরের দর্শনীয় স্থান সমূহ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শেরপুরের দর্শনীয় স্থান সমূহ এক নজরে দেখুন শেরপুর সংবাদ .কম এ  ।

ইউটিউব লিংকঃ শেরপুর সংবাদ 

ফেসবুক পেজঃ শেরপুর সংবাদ 

শেরপুর জেলা ময়মনসিংহ বিভাগের প্রশাসনিক অঞ্চল। প্রাচীন কালে কামরূপা রাজ্যের অংশ শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য গজনী অবকাশ কেন্দ্র, মধুটিলা ইকোপার্ক, শের আলী গাজীর মাজার, জরিপ শাহ এর মাজার, শাহ কামাল এর মাজার, বার দুয়ারী মসজিদ, ঘাগড়া লস্কর খান মসজিদ, মাইসাহেবা জামে মসজিদ, পানি হাটা দিঘী, নয়াআনী বাজার নাট মন্দির, রঘুনাথ জিউর মন্দির, গড়জরিপা কালিদহ গাং এর ডিঙি, নালিতাবাড়ির বিখ্যাত রাবারড্যাম, মঠ লস্কর বারী মসজিদ, গড়জরিপা ফোর্ট, কসবা মুঘল মসজিদ, নয় আনি আড়াই আনি এবং পৌণে তিন আনি জমিদার, অলৌকিক গাজির দরগাহ, মুন্সি দাদার মাজার এছাড়াও রয়েছে লাউচাপড়া ইত্যাদি।

শেরপুর জেলা বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। পূর্বে ১৮২৯-২০১৫ পর্যন্ত এটি ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত ছিল। শেরপুর জেলার আয়তন ১,৩৬৪.৬৭ বর্গকিলোমিটার। শেরপুর জেলা পূর্বে জামালপুর জেলার একটি মহকুমা ছিল। ১৯৮৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এটিকে জেলায় উন্নীত করা হয়। শেরপুর শহর, দেশের রাজধানী ঢাকা থেকে ১৯৮ কিলোমিটার (১২৩.০৩ মাইল) উত্তরে অবস্থিত।

সংগৃহীত: আবির 

১) গজনী অবকাশ কেন্দ্রঃ শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান

শেরপুর থেকে আনুমানিক দূরত্ব = ৩০ কি:মি: বাসভাড়া= ৫০ টাকা। সিএনজি ভাড়া = ২৫০ টাকা। এখানে আসার জন্য সড়ক পথে যাতায়ত খুব সহজ। গজনী অবকাশ পর্যন্ত রয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মসৃণ পিচঢালা পথ। রাজধানী ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ হয়ে যাতায়াতই সবচেয়ে উত্তম। উত্তরবঙ্গ থেকে টাঙ্গাইল-জামালপুর হয়েও আসতে পারেন সড়ক পথে। শেরপুর শহর থেকে গজনীর দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে সরাসরি মাইক্রোবাস অথবা প্রাইভেট কারে গজনী অবকাশ যেতে পারেন। ঢাকা থেকে নিজস্ব বাহনে মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার ঘন্টায় ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশে আসা যায়। এ ছাড়া ঢাকার মহাখালি থেকে ড্রিমল্যান্ড বাসে শেরপুর আসা যায়। ভাড়া ২৫০টাকা। মহাখালী থেকে দুপুর ২টায় ছাড়ে এসিবাস। ভাড়া ৩৫০টাকা। এছাড়া ঢাকা বঙ্গবন্ধু জাতীয় ষ্টেডিয়াম ৪ নং গেইট থেকে সরাসরি বিকাল ৩-৪টায় শিল্প ও বণিক সমিতির গাড়ী ঝিনাইগাতীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। ভাড়া ৩০০টাকা । যারা ড্রিমল্যান্ডে আসবেন, তারা শেরপুর নেমে নিউমার্কেট থেকে মাইক্রোবাস ৫০০ টাকায় সোজা গজনী যেতে পারবেন। শেরপুর থেকে লোকাল বাস,টেম্পু, সিএনজি অথবা রিক্সায় গজনী অবকাশ কেন্দ্রে যাওয়া যায়।

২) মধুটিলাঃ শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান

ঢাকা থেকে মধুটিলা ইকোপার্কের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহ হয়ে শেরপুরে আসতে হবে। শেরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী বাজার পর্যন্ত লোকাল বাস সার্ভিস রয়েছে। নন্নী বাজার থেকে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ভাড়ায় পাওয়া যায়। শেরপুর থেকে ভাড়ায় মাইক্রোবাস, অটোরিকশা অথবা মোটরসাইকেলে মধুটিলা ইকোপার্কে আসা যাবে। অথবা ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে সরাসরি নালিতাবাড়ী পর্যন্ত গেটলক সার্ভিস রয়েছে। জনপ্রতি ভাড়া ৩০০ টাকা। নালিতাবাড়ী থেকে অটোরিকশা, মোটরসাইকেলে ২০-২৫ মিনিটে মধুটিলায় যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে দিনে এসে দিনেই ফিরে যাওয়া যায়।

৩) রাজার পাহাড় ও বাবেলাকোনাঃ শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান

দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে বাসে বা যে কোনো যানবাহনে আসা যায় শেরপুর শহরে। এখান থেকে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার দূরে শ্রীবরদীর কর্ণঝোরা বাজার। বাস, টেম্পুসহ যে কোনো যানবাহনে আসা যায় মনোমুগ্ধকর নয়ানিভিরাম স্থান রাজার পাহাড় থেকে বাবেলাকোনায়। পাশেই রয়েছে অবসর কেন্দ্র। রাত হলে সেখানে থাকার জন্য রয়েছে নিরাপত্তাবেষ্টিত আবাসিক ভবন। কম খরচে ,কম সময়ে এ গারো পাহাড় আপনাকে দেবে অনাবিল আনন্দ।

৪) নয়াবাড়ির টিলাঃ শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান

দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে বাসে বা যে কোনো যান বাহনে আসা যায় শেরপুর শহরে। এখান থেকে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার দূরে শ্রীবরদী।

৫) পানিহাটা-তারানি পাহাড়ঃ শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান 

শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার এবং শেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নে অবস্থিত এ স্থানটি। তবে ঢাকা থেকে শেরপুর জেলা শহরে না এসেই নকলা উপজেলা শহর থেকেই নালিতাবাড়ী যাওয়ার সহজ ও কম দূরত্বের রাস্তা রয়েছে। এরপর নালিতাবাড়ী শহরের গড়কান্দা চৌরাস্তা মোড় হয়ে সোজা উত্তরে প্রথমে নাকুগাঁও স্থলবন্দরের কাছাকাছি গিয়ে পূর্ব দিকটায় মোড় নিয়ে ভোগাই ব্রিজ পাড়ি দিতে হয়। এরপর সোজা পূর্ব দিকে প্রায় আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার গেলে চায়না মোড়। এ মোড়ে এসে আবারও গতিপথ বদলে যেতে হয় উত্তরে। উত্তরের এ রাস্তা ধরে প্রায় এক কিলোমিটার গেলেই পানিহাটা-তারানির মূল পয়েন্ট। ব্যক্তিগত উদ্যোগে রিকশা, সিএনজি অটোরিশা বা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলেও যাওয়া যায় নালিতাবাড়ী শহর থেকে মাত্র ৩৫-৪৫ মিনিটের ব্যবধানে এবং অল্প খরচের মধ্যেই। এতে মোটরসাইকেল ভাড়া আসা-যাওয়ায় প্রায় ১ শ ৫০ টাকা।

৬) কলা বাগানঃ শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান

শেরপুর জেলা শহরের পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের শেরপুর-ঝিনাইগাতী ফিডার রোডর সংলগ্ন কান্দাপাড়া মহল্লার মো: আজাহার আলীর ধানের খোলার পাশে কান্দাপাড়া, শেরপুর সদর, শেরপুর

৭)সুতানাল দীঘিঃ শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান

নালিতাবাড়ী আড়াইআনী বাজার হতে সুতিয়ারপাড় বাজার হয়ে শালমারা রাস্তায় যাওয়া যায়। টেম্পু, অটোরিক্সা বা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম।

৮) ঘাঘড়া খান বাড়ি জামে মসজিদঃ শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান

বাংলাদেশের শেরপুর জেলায় অবস্থিত প্রাচীন মসজিদ। মুঘল আমলে স্থাপিত এই মসজিদটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার ঘাঘড়া লস্কর গ্রামে অবস্থিত, আর সে কারণেই এর নাম হয়েছে ঘাঘড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ। ১৯৯৯ সালে মসজিদটির রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

৯) নয়আনী জমিদার বাড়ির রংমহলঃ শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান

বাংলাদেশের শেরপুর জেলায় অবস্থিত তৎকালীন জমিদারের রংমহল। রংমহলটি ২০০৩ সালে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। কিন্তু ২০১৪ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর স্থাপনাবিহীন এই পুরাকীর্তিকে প্রত্নতত্ত্বের তালিকায় লিপিবদ্ধ করে।

১০) শের আলী গাজীর মাজারঃ শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান

শেরপুর জেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে গাজীর খামারের কাছে গাজীর দরগা হিসেবে পরিচিত শের আলী গাজীর মাজার (Sher Ali Gaji Majar) অবস্থিত। ঢাকার মহাখালী থেকে ড্রিমল্যান্ড, তুরাগ, আনন্দের মতো বাসে শেরপুর যাওয়া যায়। শেরপুর থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা নিয়ে মাজারে যেতে পারবেন।

১১) বনরাণী ফরেষ্ট রিসোর্টঃ শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার গান্ধিগাঁওয়ে সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে জঙ্গল ঘেরা অপরুপ প্রাকৃতিক পরিবেশে আধুনিক পর্যটন স্থাপনা বনরাণী ফরেষ্ট রিসোর্ট (Bonorani Forest Resort) নির্মাণ করা হয়েছে। গজনী অবকাশ কেন্দ্র হতে এই ব্যক্তিগত মালিকানাধীন পিকনিক স্পট বনরাণী ফরেষ্ট রিসোর্ট পায়ে হেঁটে যেতে মাত্র ১০/১২ মিনিট সময় লাগে। পাহাড়ী ছড়া, সবুজ বন আর বন্য হাতির বিচরনের রোমান্চকর এই রিসোর্টে ক্যাম্প ফায়ার, BBQ ডিনার আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া রিসোর্টের ব্যবস্থাপনায় ৩ বেলা স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।

১২) পৌনে তিন আনী জমিদার বাড়িঃ শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান

শেরপুর জেলা সদরে অবস্থিত জমিদার সতেন্দ্র মোহন চৌধুরী ও জ্ঞানেন্দ্র মোহন চৌধুরীর বাড়িটি পৌনে তিন আনী জমিদার বাড়ি (Pone Ten Ani Jamidar Bari) হিসাবে সুপরিচিত। গ্রিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই বাড়িটি অন্যান্য জমিদার বাড়ি থেকে আলাদা। যদিও কালের বিবর্তনে জমিদার বাড়ির অনেক সৌন্দর্যই ম্লান হয়ে গিয়েছে তবে জমিদার বাড়ির চমৎকার নকশাকৃত দৃষ্টিনন্দন স্তম্ভগুলো আজো জমিদারী আমলের ঐতিহ্য বহন করে চলছে। স্তম্ভগুলো চতুষ্কোণ বিশিষ্ট এবং এতে বর্গাকৃতির ফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে।

১৩) গড়জরিপা বার দুয়ারী মসজিদঃ শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান

স্থাপত্যনিদর্শনের অন্যতম গড় জরিপা বার দুয়ারী মসজিদ। এটিও এ অঞ্চলের ঐতিহ্য। জনশ্রুতিতে আনুমানিক ৭-৮ শত বৎসর পূর্বে জরিপ শাহ নামক এক মুসলিম শাসক কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল এই মসজিদটি। তবে এটি বর্তমানে পুনঃনির্মান করা হয়েছে। আসল মসজিদটি ভূ গর্ভেই রয়ে গেছে। তার উপরেই স্থাপিত হয়েছে বর্তমান মসজিদটি। জামালপুর সদর উপজেলার তিতপলস্না ইউনিয়নের পিঙ্গলহাটী(কুতুবনগর) গ্রামের (ব্রাহ্মণ ঝি বিলের উত্তর পাড়ে) জনৈক পীর আজিজুল হক ছাহেব খনন কার্য চালান এবং বের করেন মসজিদের ধ্বংসাবশেষ। মসজিদটির ইটের ধরন কৌশলে খান বাড়ি মসজিদের ইটের সাথে যথেষ্ট মিল লক্ষ্য করা যায়। প্রাচীন রীতির সাথে আধুনিক রীতির সংমিশ্রণে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে যা সহজেই দর্শকদের মন জয় করে। অপরূপ সুন্দর এই মসজিদটি আসলে পুরাকীর্তির নিদর্শন। ১২টি দরজা থাকায় এর নাম করণ করা হয় বার দুয়ারী মসজিদ। পূর্বেও তাই ছিল। অপূর্ব কারুকাজ সমবলিত মেহরাব ও কার্ণিশ গুলো সকলের দৃষ্টি কাড়ে। এছাড়াও কিছু দূরে জরিপ শাহ এর মাজার অবস্থিত। এর অনতিদূরে কালিদহ সাগর রয়েছে। জনশ্রুতিতে আছে চাঁদ সওদাগরের ডিঙ্গা এখানেই ডুবেছিল। নৌকার আদলে কিছু একটা অনুমান করা যায় এখনও। অঞ্চলটিতে একবার ঘুরে এলে যে কোন চিন্তশীল মানুষকে ভাবিয়ে তুলবে। খনন কার্য চালালে হয়তো বেরিয়ে আসবে এ অঞ্চলের হাজার বৎসরের প্রাচীন সভ্যতার নানা উপকরণ।

১৪) গোপী নাথ ও অন্ন পূর্ন্না মন্দিরঃ শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান

নির্মান কাল ১৭৮৩ খ্রিঃ। নির্মাতা জমিদার সত্যেন্দ্র মোহন চৌধুরী ও জ্ঞানেন্দ্র মোহন চৌধুরী। মন্দিরটি স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম নিদর্শন। পাঁচটি কক্ষ বিশিষ্ট মন্দির টি পদ্মস্তম্ভ দ্বারা দন্ডায়মান। স্তম্ভ শীর্ষে ও কার্নিশে ফুল ও লতা পাতার নকশা সমবলিত এক অপরূপ স্থাপত্য। ডরিক ও গ্রিক ভাব ধারায় নির্মিত। বেদীর উপরে স্থাপিত অনেক গুলো ধাপে। জানালা গুলোর উপরেও রয়েছে অনেক অলংকার। দক্ষিণ ও পূর্ব পার্শ্বে উপরের কার্নিশ রাজকীয় মুকুট বিশিষ্ট তাজিয়া স্থাপন করা হয়েছে যা দেখে মৌর্য যুগের স্থাপত্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

১৫) জিকে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ঃ শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান

নির্মাণ কাল ১৯১৯ সাল। প্রতিষ্ঠাতা জমিদার গোবিন্দ কুমার চৌধুরী। বৃটিশ ধারায় নির্মিত প্রতিষ্ঠানটিতে অনেকগুলো পাঠদান কক্ষ, সুপ্রশস্ত জানালা রয়েছে। সমস্ত ভবন টিতে ফর্মের ব্যবহার এমন ভাবে করা হয়েছে যে, দৃষ্টি সকল স্থানেই সমান পড়ে। ইটের গাঁথুনি দিয়ে সমস্ত ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর সম্মুখভাগের পুকুরটি স্কুলের সৌন্দর্যকে আরো বৃদ্ধি করেছে। এর পশ্চিম পাশে রয়েছে বিশাল সবুজের সমাহার। এটি শের আলী গাজি পৌর পার্কের পশ্চিম পাশে অবস্থান করছে। প্রাচীনতম স্থাপনার মধ্যে এটিও জনসাধারণকে মুগ্ধ করে।

১৬) বারোমারি গির্জা ও মরিয়ম নগর গীর্জাঃ শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান

দুটিই শেরপুর জেলার নানা ধর্মের ঐতিহ্য বহন করে। স্থাপত্য কলার অন্যতম নিদর্শন গির্জা গুলির নির্মাণে অনেক কলা কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। শেরপুর শহর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় যতগুলি স্থাপত্য নির্মান হয়েছিল তার বেশীর ভাগই নির্মাণ হয়েছিল জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায় কিংবা তাদের প্রয়োজনেই। যেমন বাস ভবন, রংমহল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষা ভবনের মধ্যে শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমী ১৮৮৭ সালে জমিদার রায় বাহাদুর চারু চন্দ্র চৌধুরী কর্তৃক নির্মিত ভবনটি ছিল অনিন্দ্য সুন্দর যা বর্তমানে ধ্বংস প্রাপ্ত।

১৭) মাইসাহেবা জামে মসজিদঃ শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান

নির্মান কাল আনুমানিক ২৫০ বৎসর পূর্বে। এটিও এ জেলার প্রাচীন নিদর্শনের একটি। বর্তমানে মসজিদটি আধুনিক ভাব ধারায় পুনঃ নির্মাণ হয়েছে। বক্রাকারে খিলানের ব্যবহার এবং সুউচ্চ মীনার ২টি সত্যি দৃষ্টি নন্দিত। স্থাপত্য কলার আধুনিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় এই মসজিদটিতে। এটি শেরপুর শহরের প্রাণ কেন্দ্রে শেরপুর সরকারি কলেজর দক্ষিণ পশ্চিম পাশে অবস্থিত। শেরপুর শহরের প্রবেশের সময় এর মিনার দুইটি অনেক দূর থেকেও দেখা যায়। বিশাল এই মসজিদের সামনের অংশে অনেক জায়গা রয়েছে। এখানে প্রতি বছর ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর শহরে প্রবেশের পর যে কারো এই মসজিদটি দৃষ্টি কারবে।

১৮)লোকনাথ মন্দির ও রঘুনাথ জিওর মন্দিরঃ শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান

এ মন্দিরের প্রতিমা গুলির একটা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট রয়েছে। এটাও রঘুনাথ জিওর মন্দির বেদীর উপর স্থাপিত। দর্শনার্থীরা সহজেই মন্দিরে প্রবেশ করতে পারে। দেয়াল, কার্নিশ স্তম্ভ গুলি ফুল, লতা, পাতার নকশা খচিত নানা রঙে রঞ্জিত করা হয়েছে। এটাও একটি দর্শনীয় প্রাচীন স্থাপত্য।

১৯) গারো পাহাড়ঃ শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান

প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি সীমান্ত কন্যা গারো পাহাড়ের সুষমা মন্ডিত শেরপুর একটি অতি প্রাচীন জনপদ। দেশের ছোট্ট সুন্দর প্রান্তিক জেলা শেরপুর। অতি প্রাচীনকালে শেরপুর কামরূপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। মোগল সম্রাট আকবরের শাসনামলে বিশাল চওড়া ও খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র পার হয়ে শেরপুর পৌঁছতে সময় লাগত এক প্রহর বা তিন ঘন্টারও বেশী। এই পারের পারানি ছিল দশকাহন কড়ি বা সুলতানী দশ টাকা। তাই এ অঞ্চলকে তখন বলা হতো ‘দশকাহনিয়া বাজু’(বিভাগ)। সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে ভাওয়ালের গাজীগণ ঈশা খাঁর বংশধরদের কাছ থেকে দশকাহনিয়া পরগণা দখল করে নেয়। গাজী বংশের শেষ জমিদার শের আলী গাজীর নামানুসারে দশকাহনিয়ার নামকরণ করা হয় – শেরপুর। ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ইক্তার উদ্দিন উজবেগ তুগ্রলখা, ১৪৯১ খ্রিস্টাব্দ থেকে দ্বিতীয় ফিরোজ শাহ, ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে হুসেন শাহ, পরবর্তীতে পাঠান সম্রাট শেরশাহ, মোগল সম্রাট বাবর, হুমায়ুন, আকবর- এমনি আরও অনেক রাজা-বাদশাহগণ এ অঞ্চল শাসন করতেন ।

২০) লাউচাপড়া পিকনিক স্পটঃ জামালপুর জেলার দর্শনীয় স্থানটি শেরপুরের জনগনের খুবই জনপ্রিয় । 

লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্র বা লাউচাপড়া পিকনিক স্পট (Lauchapra Picnic Spot) বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত ঘেষা জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের পশরা সাজিয়ে থাকা লাউচাপড়ার পাহাড়, অরণ্য, লেক এবং আদিবাসীদের স্বতন্ত্র জীবনধারা দেশি বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য জামালপুর জেলা পরিষদ ১৯৯৬ সালে গারো পাহাড়ে ২৬ একর জায়গা জুড়ে ‘নিকা’ পিকনিক স্পট নির্মাণ করে। পিকনিট স্পটের প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু পাহাড়ের উপর আরও ৬০ ফুট উঁচু একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। এই ওয়াচ টাওয়ারের উপর থেকে সারি সারি সবুজ পাহাড়, মেঘের লুকোচুরি খেলা এবং অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। আর লাউচাপড়া পিকনিক স্পটে শিশুদের জন্য রয়েছে দোলনা, স্লিপার সহ বেশকিছু রাইড এবং গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। পার্কে প্রবেশ করতে দশ টাকা দিয়ে টিকেট সংগ্রহ করতে হয়।

 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular